Showing posts with label ভুতের গল্প. Show all posts
Showing posts with label ভুতের গল্প. Show all posts

(ভৌতিক গল্প) শ্মশানের কালো ছায়া

Be the first to comment!

গ্রামের নাম ছিল শালবন। গ্রামের এক প্রান্তে ছিল একটি পুরোনো শ্মশান, যেখানে বহু বছর ধরে কেউ রাতে যেত না। লোকমুখে প্রচলিত ছিল, সেখানে এক অশান্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায়।

একদিন শহর থেকে রাহাত নামে এক কলেজ ছাত্র তার মামার বাড়িতে বেড়াতে এলো। সে ভূত-প্রেতের গল্পে বিশ্বাস করত না। গ্রামের লোকেরা যখন শ্মশানের গল্প বলল, সে হেসে উড়িয়ে দিল।

“এসব কুসংস্কার,” রাহাত বলল। “আমি আজ রাতেই শ্মশানে গিয়ে প্রমাণ করে দেব, ভূত বলে কিছু নেই।”

গ্রামের সবাই তাকে নিষেধ করল। কিন্তু সে কারও কথা শুনল না।

রাত বারোটার দিকে হাতে টর্চ নিয়ে রাহাত একাই শ্মশানের দিকে রওনা দিল। আকাশে চাঁদ ছিল না, চারদিকে ঘন অন্ধকার। দূরে শিয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছিল।

শ্মশানে পৌঁছে সে একটি পুরোনো বটগাছের নিচে দাঁড়াল। চারপাশে ভাঙা চিতা আর আগাছায় ভরা জমি। প্রথম আধঘণ্টা কিছুই ঘটল না।

হঠাৎ তার টর্চের আলো কেঁপে উঠল। বাতাসও যেন অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে গেল।

রাহাত ভাবল ব্যাটারির সমস্যা। কিন্তু ঠিক তখনই সে শুনতে পেল কারও কান্নার শব্দ।

মৃদু... তারপর ধীরে ধীরে জোরে।

সে টর্চ ঘুরিয়ে চারদিকে আলো ফেলল। কেউ নেই।

কান্নার শব্দটা যেন বটগাছের পেছন থেকে আসছে।

সাহস করে সে এগিয়ে গেল।

গাছের পেছনে গিয়ে সে যা দেখল, তাতে তার শরীর জমে গেল।

সাদা শাড়ি পরা এক বৃদ্ধা মাটিতে বসে কাঁদছে। তার লম্বা চুল মুখ ঢেকে রেখেছে।

“কে আপনি?” কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল রাহাত।

বৃদ্ধা ধীরে ধীরে মাথা তুলল।

মুহূর্তেই রাহাতের বুকের রক্ত যেন শুকিয়ে গেল।

বৃদ্ধার মুখে কোনো চোখ ছিল না। শুধু দুটি কালো ফাঁকা গর্ত। ঠোঁট ছিঁড়ে কান পর্যন্ত চলে গেছে।

হঠাৎ সে বিকট হাসি হাসতে শুরু করল।

রাহাত দৌড় দিতে গেল, কিন্তু তার পা যেন মাটিতে আটকে গেছে।

ঠিক তখনই চারপাশ থেকে আরও ফিসফিস শব্দ ভেসে এলো।

“থেমে যাও...”

“এখানেই থাকো...”

“আমাদের সঙ্গে থাকো...”

রাহাত দেখতে পেল অন্ধকারের ভেতর থেকে অনেকগুলো ছায়ামূর্তি বেরিয়ে আসছে। কারও মাথা নেই, কারও হাত নেই, কারও শরীর আধপোড়া।

তারা ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ধরল।

ভয়ে রাহাত চিৎকার করে উঠল।

হঠাৎ তার টর্চ নিভে গেল।

চারদিকে শুধু অন্ধকার।

এরপর সে কিছুই মনে করতে পারেনি।

পরদিন সকালে গ্রামের কয়েকজন মানুষ শ্মশানের কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পেল। তার চুলের অনেক অংশ সাদা হয়ে গিয়েছিল, আর মুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ।

জ্ঞান ফেরার পর সে আর কখনও সেই রাতের কথা বিস্তারিত বলেনি। শুধু একবার বলেছিল—

“ওরা এখনও সেখানে আছে... অন্ধকার নামলেই বেরিয়ে আসে...”

কয়েক মাস পর রাহাত শহরে ফিরে যায়। কিন্তু মাঝরাতে সে প্রায়ই চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠত।

এক রাতে তার মা দরজা খুলে দেখলেন, রাহাত বিছানার কোণে বসে আছে। তার চোখ স্থির জানালার দিকে।

মা জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে?”

রাহাত ধীরে ধীরে জানালার দিকে আঙুল তুলে বলল—

“মা... ওই বৃদ্ধাটা আবার এসেছে...”

আর ঠিক তখনই জানালার বাইরে অন্ধকারে দুটি কালো, চোখহীন গর্ত যেন জ্বলজ্বল করে উঠল।

সমাপ্ত।

Read More

ভৌতিক বাড়ি: এক রাতের অভিশাপ

Be the first to comment!

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। নীলয় তার বন্ধুরা—রানা, তমাল আর শ্রেয়ার সঙ্গে গ্রামের এক পুরনো বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাড়িটিকে সবাই “জমিদার বাড়ি” নামে চেনে। বহু বছর আগে এই বাড়িতে নাকি এক জমিদার তার পুরো পরিবারসহ রহস্যজনকভাবে খুন হন। তখন থেকেই বাড়িটা পরিত্যক্ত। গ্রামবাসীরা বলে, রাত হলে সেই বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ, শেকলের ঝনঝনানি শোনা যায়।

কিন্তু নীলয় এসব ভূতের গল্পে বিশ্বাস করে না। বরং ও চ্যালেঞ্জ নিয়েছে এক রাত ওই বাড়িতে কাটিয়ে প্রমাণ করবে—ভূত-টুত কিছুই নেই।



চারজন মিলে রাত ৯টার দিকে বাড়ির ভেতরে ঢোকে। পুরনো কাঠের দরজাটা চাপা শব্দে বন্ধ হয়, যেন কারও দীর্ঘশ্বাসের মতো। ভেতরে ধুলা, জাল, আর একটা ঘন গন্ধ। ওরা একটা মাঝারি ঘরে শুয়ে পড়ে, সঙ্গে ছিল টর্চ আর ক্যাম্পিং বেড। কথা বলতে বলতে হঠাৎ করেই বাইরে ঝড় ওঠে, হাওয়ার তাণ্ডবে জানালার কাঁচ কাঁপতে থাকে।

রাত ১২টার একটু পরে শ্রেয়া আচমকা উঠে চিৎকার করে ওঠে—
“কে… কে দাঁড়িয়ে ছিল জানালার পাশে? কেউ একজন তাকাচ্ছিল…”

রানা টর্চ জ্বালিয়ে দেখে, বাইরে কেউ নেই। কিন্তু জানালার কাঁচে একটা হাতের ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সবার চোখ বড় হয়ে যায়। তখনই দূরের ঘর থেকে ভেসে আসে শেকলের টানাটানি আর এক নারীর করুণ কণ্ঠে কান্না।

তমাল বলল, “চলো বেরিয়ে যাই। এটা স্বাভাবিক না।”
কিন্তু দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ—হাতল নড়ছেই না। যেন কেউ বা কিছু বাইরে থেকে আটকে রেখেছে।

ঘরের ভেতর হঠাৎ ঠাণ্ডা হয়ে আসে, নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। হাওয়ার সঙ্গে ভেসে আসে একটি অস্পষ্ট কণ্ঠ—
“আমার ন্যায়… কেউ পায়নি… তোমরাও পাবে না…”

নীলয়, এবার সত্যিই ভয় পেয়ে যায়। অতীতের সব অবিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। হঠাৎ, শ্রেয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ে—তার চোখ ফাঁকা, মুখে নীলচে ছায়া। সে যেন আর নিজে নেই—ভেতরে কেউ ঢুকে পড়েছে।

শ্রেয়ার মুখ দিয়ে বেরোয় সেই একই কণ্ঠ—
“এই বাড়ি আমার… তোমরা কেন এসেছ?”

তিন বন্ধু আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দোতলার দিকে ছুটে যায়। ওখানে একটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাদা শাড়ি পরা ছায়ামূর্তি দেখে সবাই থমকে যায়। সে ধীরে ধীরে বলে,
“আমি মুক্তি চাই… কেউ আমাকে খুন করেছিল… সেই রাতেই…”

হঠাৎই পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে। দরজাগুলো খুলে যায়, বাতাস থেমে যায়। শ্রেয়া ধীরে ধীরে উঠে বসে—সে কিছুই মনে করতে পারে না।

ওরা দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। সকাল হলে স্থানীয় একজন বয়স্ক মানুষ জানান, জমিদার স্ত্রীকেই খুন করা হয়েছিল এক ঈর্ষাকাতর আত্মীয়ের হাতে, আর তখন থেকেই তার আত্মা ন্যায়ের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

নীলয় আর কখনো অবিশ্বাস করে না—কারণ সে জানে, কিছু ব্যথা কখনো মরে না… তারা শুধু অপেক্ষা করে… পরের কারও জন্য।

Read More

ভয়ঙ্কর অতিথির গল্প

Be the first to comment!

রাত তখন প্রায় ১টা। হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল। রাফি চমকে উঠল। গ্রামের পুরোনো বাড়িতে সে একাই ছিল। বিদ্যুৎও চলে গেছে ঘন্টাখানেক আগে। টর্চ হাতে নিয়ে সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কে আসলো এতো রাতে?


দরজা খুলে সে দেখল, একজন বৃদ্ধা মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। পরনে সাদা শাড়ি, চোখদুটো যেন গভীর অন্ধকারে ঢাকা।
“ছেলে, একটু জল পাবো?”—নারীকণ্ঠটি কাঁপা, ঠান্ডা।

রাফি কিছুটা দ্বিধা নিয়ে ভিতরে ডাকল তাকে। বৃদ্ধা ঘরে ঢুকে বসে পড়লেন, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তার পা ছিল না! রাফি ভয়ে পিছিয়ে গেল।

“তুমি জানো না, এই বাড়িটা আগে আমার ছিল,”—বৃদ্ধার গলা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে উঠল।
“১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের হাতে আমি এইখানে মারা গিয়েছিলাম। আমি এখনো শান্তি খুজছি।”

রাফি দৌড়ে দরজার দিকে ছুটে গেল, কিন্তু দরজা কিছুতেই খুলছে না। ঘরের বাতাস হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে উঠল। বৃদ্ধার মুখে এক বিকৃত হাসি ফুটে উঠল।

পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা এসে দেখে—দরজা খোলা, কিন্তু ঘরে কেউ নেই। শুধু এক কাপ জল পড়ে আছে মেঝেতে, আর দেওয়ালে লেখা—

“আমি ফিরে আসব…” 

Read More

(ভুতের গল্প) চুড়ান্ত ভয়াবহতা...

4 Comments

এবার যে গল্পটি বলতে যাচ্ছি তা আমার বন্ধু প্রিন্সের মুখ থেকে শোনা । ও এই গল্পটি ওর মামার কাছ থাকে শুনেছিল । এই গল্পটি যখনি মনে হয় তখনি আমার সারা শরীর ভয়ে কেঁপে উঠে । এই ঘটনাটি ঘটে নওগাঁ শহরের একটি রাস্তায় । তখন রাত প্রায় ২ টা বাজে । এই ঘটনাটির স্বীকার একজন সিএনজি চালক। তার নাম হাবিব। হাবিব তখন তার সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছিল । সে হঠাৎ দেখলো দুইজন মধ্যবয়সী হুজুর ধরনের ব্যক্তি তাকে সিএনজি থামানোর জন্য অনুরোধ করছে । তা দেখে সে থামল এবং একজন হুজুর তার সাথে কথা বললো ।

হুজুরঃ ভাই আমরা খুব বিপদে পড়েছি ।
হাবিবঃ আপনাদের কি হয়েছে জানতে পারি ?
হুজুরঃ সামনে আমাদের এক বন্ধু একটি লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে । ওই লাশটাকে নিয়ে আমাদের সামনের গ্রামে যেতে হবে। তুমি কি আমাদের পৌঁছে দিতে পারবে? হাবিব কিছুক্ষণ ভাবলো। তার মাঝে উনাদের জন্য দয়া হলো । সে আবার কথা বললো।

হাবিবঃ আমি আপনাদের পৌঁছে দিব ।
হুজুরঃ ধন্যবাদ তোমাকে ।

এটা বলে দুইজন সিএনজ়িতে উঠে পড়লো। কিছু দূরে যেতেই হাবিব দেখলো আরেকজন হুজুর লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে । লাশটি কাপড় দিয়ে প্যাচানো । হাবিব উনার সামনে এসে সিএনজ়ি থামালো । পএরপর দুই হুজুর নামলো এবং তিন হুজুর লাশটি নিয়ে উঠলো। তারপর তারা হাবিবকে সিএনজ়ি চালাতে বললো । আর একজন হুজুর ওর সাথে কথা বলতে থাকলো।

হুজ়ুরঃ সামনের গ্রামে যেতে কতক্ষন লাগবে ?
হাবিবঃ প্রায় ৪০ মিনিট।
হুজুরঃ তুমি পেছনের দিকে চাইবে না । লাশের অবস্থা বেশি ভালো না । দেখলে ভয় পাবে ।
হাবিবঃ আচ্ছা হুজুর ।

তারপর হাবিব সিএনজি চালাতে শুরু করলো। কিন্তু সে লাশ দেখার আকর্ষণ অনুভব করলো কিন্তু সে সাহস পেলো না । এর ৫ থেকে ৬ মিনিট পর সে এক অদ্ভুত বাজে শব্দ শুনতে পারলো । এক অজানা ভয় তাকে গ্রাস করলো । সে তার মনের ভয় দূর করার জন্য সামনের লুকিং গ্লাস দিয়ে পেছনের দিকে চইলো । চেয়ে যা দেখতে পারলো যা সে কেনো, আমরা কেউ কোনোদিন ভাবতে পারি না। সে দেখলো ওই তিন হুজুর লাশটিকে ছিড়ে ছিড়ে শকুনের মত খাচ্ছে। কেউ কলিজা, তো কেউ বুকের রক্ত পান করছে। তা দেখে সে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।

যখন তার জ্ঞান ফিরলো তখন সে হাসপাতালে ভর্তি। তার সারা শরীরে ব্যান্ডেজ । তাকে সকালে রাস্তার পাশে একটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয় । এখন সে সুস্থ আছে । কিন্তু ওইদিনের ঘটনার পর থেকে আজও সে সন্ধ্যার পর আর সিএনজি নিয়ে বের হয় না । তাকে আজও ওইদিনের ঘটনা তাড়া দিয়ে বেড়ায়।

Read More

ভুতের সাথে

1 Comment

“হরিপ্রসাদের বাড়ি যাব, বলতে পারেন কোথায় ?”
লোকটাকে প্রশ্ন করা বোধ হয় আমার উচিত হয়নি। আমার চেহারার দিকে অপলক দৃস্টি তার, মনে হচ্ছে চোখের মনি দপদপ করে জ্বলছে। যেন আমার ভাষা কোন ভিনগ্রহের এলিয়েনের ভাষা, বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। আমি আবার জিজ্ঞেস
করলাম সেই একই প্রশ্ন “হরিপ্রসাদের বাড়ি যাব, রাস্তাটি কি এই দিকে? নাকি ঐদিকে?” আমি অংগুলি নির্দেশ করলাম। শেষ ট্রেনটি স্টেশন থেকে ছেড়ে চলে গেল। এখন চারদিকে শুনশান নীরবতা । গাছের পাতা পরার শব্দ বেশ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, চারদিক অন্ধকার অমাবস্যায় ঢেকে গেছে। বিদ্যুৎ নেই, কিছুক্ষণ আগেও দুজন গার্ড ছিল, এখন আর দেখা যাচ্ছে না, তারাও চলে গেছে কোথাও। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। মনে কিছুটা ভয় ও সংশয় দেখা দিল, লোকটা কি তাহলে বোবা, নাকি কানে খাটো, নাকি পাগল। হবে হয়ত কোন একটা, না হলে কথার উত্তর দিচ্ছে না কেন, ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে
আছে আমার দিকে। কিছুক্ষণ পর আমাকে প্রায় অবাক করে দিয়ে লোকটা উত্তর দিল, “হরিপ্রসাদকে আপনার কি দরকার?”
: আছে, দরকার না হলে কি এখানে আসা। তা আপনি কি ওনার কাছে একটু নিয়ে যেতে পারবেন ?
: পারব বৈকি, অবশ্যই পারবো, অবশ্যই পারবো।
এই বলে লোকটা দাড়িয়ে বলল ঐ যে দেখছেন পাকুড় গাছটা, ঐখানের সবচাইতে বড় ডালটায় উনি থাকেন। তবে আমি কিন্তু কাছে যেতে পারব না। লোকটার শরীর থেকে গাঁজার উৎকট গন্ধ আসছিল । নেশার ঘোরে আবোল তাবোল
বকছে বোধ হয় । নিরর্থক দাড়িয়ে থাকার
কোনো মানে হয় না । আমাকে ভুলে গেলে
চলবে না আমি একজন সাংবাদিক । অদ্ভুত ফিচারের জন্যই এ শ্যামপুর গ্রামে আসা । কিন্তু চারদিকের নীস্তব্ধতা ও ভুতুরে পরিবেশ সে আশাকে নিরাশা করবে তা হতে দেয়া যায় না । ভয়ের কাছে হার মানবো সে রকম ছেলে আমি নই । অনেক সাহস করে অন্ধকার রাস্তা ধরে হাটা শুরু করলাম। রাস্তার দুধারে ঝোঁপঝাড়ে ছেয়ে গেছে । দুপাশে ঘন জঙ্গল, আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে । জোনাকিরা শুধু মিটিমিটি জ্বলছে । আমি নিঃশব্দে হাটার চেষ্টা করলাম কিন্তু পায়ের নীচে খড়খড়ে শুকনো পাতার কচকচ শব্দ হতে লাগল ।
ক্রমেই মনের গহীনে ভয় দানা বেঁধে উঠল ।
ঝিঁঝিঁ পোকা থেমে থেমে ডেকে যাচ্ছে
কানের কাছে ঝাঁ ঝাঁ শব্দ হচ্ছে । ভয়ে পা দুটি
চলছে না, মনে হচ্ছে হাজারো মন পাথর বেঁধে
রাখা হয়েছে পায়ে । হঠাৎ সম্পূর্ণ নীস্তব্ধতা
ভেঙে, কে যেন ডাকল, “কে?, কে ওখানে?
কে যাচ্ছে? ” , আমি নিজেকে সামলে নেয়ার
চেষ্টা করে বললাম, “জ্বি, আমি ঢাকার ‘সূর্যের দিন পত্রিকা’ অফিস থেকে এসেছি, আমি একজন সাংবাদিক”, ভয়ে আমার বুক কাঁপছে । কাছে আসতে আসতে লোকটা বলল “বাবা তুমি এতরাতে একা একা কি করছো? আমি এখানকার চৌকিদার, কোথায় যাবে বল,
আমি পৌঁছে দিয়ে আসি, যদি কিছু মনে না কর তাহলে আজ রাতটা আমার বাসায় থাকতে পারো । আমি অবশ্য একা মানুষ, তোমার ভয় লাগতে পারে ।” লোকটার কথায় আমার আত্মসম্মানে ঘা লাগল, আমি বললাম, “জ্বি
আমি থাকতে পারবো আমার ভয় লাগবে না আর কি বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেব, আপনাকে দেখে মনে অনেকটা সাহস পাচ্ছি ।”
লোকটা পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে লাগল ।
অদ্ভুত তার হাটার ভঙ্গি । মনে হচ্ছে ক্রমশই সে
মাটি থেকে উপরে উঠে যাচ্ছে, আবার মাটিতে
নামছে । হাটতে হাটতে লোকটা প্রশ্ন করল,
“আপনি যেন কোন পত্রিকা থেকে এসেছেন
বললেন?”
: জ্বি আমি ত্রৈমাসিক পত্রিকা “সূর্যের দিন” থেকে
এসেছি । নতুন পত্রিকা তো আপনি বোধ হয়
চিনবেন না ।
:না না, চেনাইতো লাগছে । তা কি জন্য এসেছেন
যেন? আমি আবার কোন কিছু মনে রাখতে পারি না ।
:অদ্ভুত কোন ফিচারের জন্য । আপনার কি মনে
হয়, আমি এখানে কোন অদ্ভুত জিনিস খুঁজে
পাবো?
:অদ্ভুত কোন জিনিস মানে অলৌকিক কিছু ?
: হ্যাঁ অবাস্তব কিছু, যা সাধারণত ঘটে না ।
: কি জানি পাবেন হয়তো । তবে আমার তাতে মাথা ব্যথা নেই । সারারাত পাহারা দেয়াই আমার কাজ । অন্য কিছু নিয়ে মাথা ঘামাই না ।
কথা বলতে বলতে চৌকিদার লোকটা ঝোপঝাড়
ছেড়ে ঘন জঙ্গলের দিকে যেতে লাগলেন ।
অন্ধকারে তাকে অনুসরণ করতে কষ্ট হচ্ছিল।
গহীন জঙ্গলের মাটি কিছুটা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে ।
আমার পা কাঁদায় পুরো মাখামাখি অবস্থা । হাটতে বেগ পেতে হচ্ছে , কিন্তু চৌ্কিদার লোকটা দিব্যি হেটে সামনে চলে যাচ্ছে, কোন প্রকার সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হয় না । অনেক দূর হাটার পর বিশাল এক বটগাছের সামনে চলে এল সে, আমাকে বলল, “এটাই আমার বাড়ি”।, আমি কোথাও কোন ঘরবাড়ির চিহ্ন দেখতে পেলাম না । তারপর সে বলল, “চলুন আমার বাড়িতে” এ পর্যায়ে লোকটার আকার ক্রমশই বড় হতে লাগল, এক পর্যায়ে সে আমার বাঁ হাতটা শক্ত করে ধরে হ্যাচকা টানে একেবারে গাছের মগডালে নিয়ে গেল । আমার পায়ের নীচে এক ধরনের শীতল স্রোত বয়ে গেল । লোকটার চোখগুলো ঝুলে পড়েছে, দাঁত গুলো ক্রমশই বড় হচ্ছে, জ্বিভ দিয়ে টসটস জল পড়ছে, আমার আর বুঝতে বাকি রইল না যে লোকটা আসলে ভুত । আমি প্রানপন চেষ্টা করছি বাঁ হতটা ছাড়ানোর জন্য । ক্রমশই লোকটার জ্বিভ বড় হতে লাগল এবং এক সময়ে তার জিভ দিয়ে আমাকে পেঁচিয়ে ফেলল । বিশাল মুখে
পুরে ফেলার মত অবস্থা যখন, ঠিক তখনই আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এল । আমি অনেক কষ্টে পকেটে হাত ঢোকালাম, যদি কিছু পাওয়া যায় তাহলে অন্তত শেষ চেষ্টা করা যাবে । পকেট হাতরে আমার শখের একটি কলম পাওয়া গেল । কলমটা আমাকে একজন গিফট্ দিয়েছিল । আটশাট অবস্থায় কলমটার ক্যাপ পকেটেই ছিল । আমি কলমের সুচাঁলো দিকটা দিয়ে দ্রুত লোকটার মানে ভুতটার বাঁ চোখে একটা ঘা বসিয়ে দিলাম, আর অমনি সে আমাকে ছেড়ে দিল, আমি নীচে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলাম । জ্ঞান ফেরার পর দেখি, আমি শ্যামপুর সরকারী হাসপতালে । ডাক্তার আমাকে বললেন সুরুজ নামে এক গ্রামবাসী আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন, সে বাইরে অপেক্ষা করছে । সুরুজ ও গ্রামবাসীদের ধারনা আমাকে ভুতে ধরে ছিল আর সে ভুত টা হচ্ছে এ গ্রামের মৃত এক চৌকিদার এর আত্মা, যে এখনো সবাইকে ভয়
দেখায়, ভুত হিসেবে সবার কাছে আবির্ভুত হয় ।
কিন্তু ডাক্তার এর ধারনা আমি বিশেষত ভয় পেয়ে হ্যালুসিনেশন বা ইলুশন এ আক্রান্ত হয়েছিলাম ।
একদিকে ডাক্তার অন্যদিকে গ্রামের সব মানুষ, কার কথা বিশ্বাস করবো বুঝতে পারছি না । গ্রামের এতগুলো মানুষের তো আর একসাথে
হ্যালুসিনেশন হতে পারে না । তাই দেরী না করে
বাইরে বের হয়ে এলাম, দেখলাম যে লোকটা রাতে ট্রেন প্লাটফর্ম এ বসে ঝিমুচ্ছিলো সেই
লোকটাই আসলে সুরুজ । তাকে ধন্যবাদ দিলাম আর বেশি কিছু বললাম না। শুধু জিজ্ঞেস করলাম ঢাকা যাওয়ার ট্রেন কয়টায়, তারপর সে দিনই ঢাকার ট্রেনে বাড়িতে এসে পড়ি । এরপর অনেক দিন আর পত্রিকা অফিসে যাওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা এখনও আমার কাছে পরিষ্কার নয়, আসলেই কি হ্যালুসিনেশন ছিল নাকি সত্যিকারের ভুত ??…………………

Read More

আরোএকটি ভুতের গল্প

Be the first to comment!

আজ থেকে কএক বছর আগের কথা। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালএর প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তখোনো ডরমেটরিতে থাকি। ফাস্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। পরীক্ষা দিয়ে এসে ভেবে পাচ্ছিলামনা কি করবো। এতোদিন মনে হোয়েছে কবে পরীক্ষা শেষ হবে? আরাম করে ঘুমাবো। কিন্তু আজকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কিছু করার খুজে পাচ্ছিলামনা ।হটাৎ আমরা আবিস্কার করলাম আমাদের কিছুই করার নেই। প্রাকটিকাল পরীক্ষার ডেট দেয়নি, বাড়ি যাবার উপায় নাই , মনে মনে পরাশুনাকে খুব মিস করছিলাম।

আমাদের হলে আমাদের সাবজেক্টের মোট ৪ জন মে। সন্ধার পর সাথে আরো কএক জন কে সাথে নিয়ে আড্ডা মারতে বসলাম। কিছুক্ষন পর বিদ্যুৎ চলে গেল। তখন যা হবার তাই হোলো, সবাই মিলে ভুতের গল্প শুরু করলাম। ভয়ংকর ভয়ংকর সব ভুতের গল্প। তার পর ডাইনিংইয়ে খেয়ে দেয়ে ঠিক করলাম আজকে আমরা সারা রাত সিনেমা দেখবো। তখন ছিল ডিসেম্বর মাস, রাজশাহীর হার কাপানো ঠান্ডা। ১০টার পর টিভি রুম ফাকা হতে শুরু করলো , ১২ টার পর টিভি রুমে আমরা ছারা আর কেউ নেই। আমরা সবাই খুজে খুজে আকটা ভুতের সিনেমা বের করলাম। খুবি ভয়ংকর ভুতের সিনেমা, দেখলে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে। সিনেমা শেষ হলো রাত ২ টায়। বাহিরে বের হয়ে দেখি পুরা হল নিস্তব্ধ, সাথে যুক্ত হয়েছে মেঘের মতো কুয়াশা। ডরমেটরি থেকে এক তলার টয়লেট অনেক দূরে, দোতালারটা কাছে। তাই সবাই মিলে দোতালার টাতে গেলাম। গিয়ে শুনতে পেলাম কে যেনো গোছল করছে। আমাদের সবার মনে তখন অনেক প্রশ্ন। ভয়ে সবাই স্থির হোয়ে একে অন্নের দিকে তাকিয়ে আছি। বাথরুমের ভেতর কে এক জন পানি ঢালছে তো ঢালছে। আমি একটু সাহস করে এগিয়ে গিয়ে দরজায় টোকা দিয়ে বললাম ,”ভেতরে কে”অমনি পানি ঢালা বন্ধ। একদম সব চুপচাপ। আর কথা না বলে সবাই দিলাম এক দৌড়। পরিমরি করে সবাই রুমে ঢুকলাম। আমার বেড দরজার কাছে ছিলো । রুমে ঢুকে যেই দরজা লাগাতে যাব অমনি দেখি দরজা আর লাগেনা। আমার সাথে আরো একজন এসে দরজা ধরে টানতে লাগলো, তাও দরজা লাগে না। কোনো আকটা শক্তি যেন দরজা টাকে পেছন থেকে টেনে ধরে আছে। কিছুক্ষন টানাটানির পর আমাদের হুশ হোলো দরজার কাঠ কিভাবে যেন লেগে গেছে। কনোভাবে দরজা লাগিয়ে আমরা সব লেপের তলে ঢুকে পরলাম। ঘুম কি আর হয়? 

এই হলো আমার জীবনের সবচে ভয়ংকর রাত। তার পর কি হলো যানেন? পরেরদিন খোজ নিয়ে জানলাম , ঐ ব্লকে এক আপু আছে, তিনি কিছুদিন আগে প্রেমে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি মাঝেমাঝে এমন অল্প বিস্তর সারকাস দেখান। একবার ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্মা করার চেষ্টাও করেছেন। এবং এই অতৃপ্ত আত্মা মাঝেমাঝেই ব্লকের সবার ঘুম হারাম করে দেন এমন অদ্ভুত অদ্ভুত কাজ করে। পরে যখনি এ কথা মনে হয়েছে অনেক হেসেছি।

Read More

একটি ভুতের গল্প

Be the first to comment!

প্রতিদিন বিকেল হলেই বাড়ী ফিরে আসে জাহিদ। বাসা বেশ খানিকটা দুর তো বটেই.. তাছাড়া তার নতুন বিয়ে করা বউ বাসায় একা থাকতে ভয় পায় । বিকেলের দিকে গ্রামের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ শেষ করে সাইকেলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ।

নতুন চাকরি একটু কষ্ট তো করতেই হবে । এইভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দেয় সে । তার বাসায় যাওয়ার রাস্তাটা অনেক ঘুর পথে । কয়দিন আগে একটা সর্টকাট আবিষ্কার করেছে সে । রাস্তাটা একটু নির্জন অবশ্য কিন্তু দিনের বেলায় যায় বলে ভয় লাগেনা জাহিদের ।

সেদিন কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল । প্রচন্ড শীতের সময় , ছয়টা বাজতে না বাজতেই রাতের মত হয়ে গেল। বের হওয়ার সময় একবার মনে হল ঘুরপথেই যাবে নাকি!! কিন্তু পরমুহূর্তেই হেসে উড়িয়ে দিল ও । ধুর, এই শী্তের মধ্যে এত দূর ঘুরে যাব!! তাই বড় টর্চটা হাতে নিয়ে তাড়াতাড়ি সাইকেল বের করে রওনা হয়ে গেল জাহিদ ।

রাস্তাটা পাকা নয় । পাকা হবার কথাও না । এমনিতেই মানুষজন খুব কম চলাচল করে এখান দিয়ে । প্রচন্ড শীতের মধ্যে এখন তো কারো আসার প্রশ্নই আসে না ।

হঠাৎ করেই ফুশ করে শব্দ , আর সেই সাথে সাইকেল নড়বড় ।

সাইকেল খুব জোরে চলছিল । তাই সরাসরি মাটিতে ।

শব্দ শোনার পর আর বলে দিতে হল না কি হয়েছে । জাহিদ তিক্ত মনে ভাবল বাঙালী বাঘা জিনিস । কী কী প্রবাদ যে বানাইছে । যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই কিনা সন্ধ্যা হয় ! টায়ারটাও এখনই পাংচার হইতে হইল ! হাত থেকে পড়ে টর্চটা নিভে গিয়েছিল । শংকিত মনে জাহিদ মাটি হাতড়ান শুরু করল । টর্চের মত কিছু একটা হাতে ঠেকল । তুলে নিয়ে সুইচ চাপতেই মনটা আবারো তিক্ততায় ভরে গেল । "চমৎকার !! আর কী চাই !!" এইটাও শেষ । সোজা হয়ে দাড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার চেষ্টা করল জাহিদ । কি করা যায় ! অনেকক্ষন ভেবে এটুকুই বুঝল যে এখানে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার চেষ্টা করতে থাকলে মাথা চিরদিনের মত ঠান্ডা হয়ে যাবে !

প্রথমে সাইকেলটাকে ঝোপের আড়ালে নিয়ে রাখলো কোনরকমে। নিজে কোনরকমে বাসায় পৈছতে পারলেও সাইকেলটা নিয়ে যাওয়া সম্ভব না । সকালে নিয়ে গেলেই হবে ।

তারপর আবার রাস্তায় দাড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাতেই হঠাৎ আশায় বুকটা নেচে উঠল । দূরে গাড়ির দুটো হেডলাইট এদিকেই আসছে । এই জায়গায় গাড়ি কিভাবে এল এ চিন্তা মাথায় এলেও জাহিদ তা মাথায় স্থান দিল না । জাহিদ অপেক্ষা করতে থাকল । কিন্তু গাড়িটা খুব বেশী স্লো । জাহিদ নিজেও একটু এগিয়ে গেল । গাড়িটা ওর সামনে এসেই থামল । জাহিদ খুশি মনে গাড়ির পেছনের সীটে গিয়ে উঠল । আস্তে করে গাড়ীর দরজা লাগাতেই গাড়িটা আবার চলতে শুরু করল ।

গাড়ির ভেতরটা বেশ গরম । জাহিদের মনে হল ও যেন ঠান্ডা দোযখ থেকে গরম বেহেশতে এসে পড়ল । গাড়ীর চালককে কিভাবে ধন্যবাদ দেবে বুঝতে পারছিল না জাহিদ । পেছন থেকে ও বলল-

" থ্যাংকিউ ভাই । জীবনটা বাঁচালেন ।"

চালক জবাব দিল না ।

একটু অস্বস্তিতে পড়ল জাহিদ । আবার বলল-

"রাস্তায় হঠাৎ সাইকেলের চাকা পাংচার হয়ে গেল আরকি হে হে।"

এবারো কোন জবাব নেই ।

জাহিদ বুঝতে পারছিল না এই লোক কথা বলে না কেন?

আবারো ও বলল

"এদিকে কার বাসায় যাবেন?"

এবারো কোন জবাব নেই।

এবার একটু মেজাজ খারাপ হল জাহিদের । ব্যাপার কি? যাই হোক ও চুপ করে গেল ।

কিছুক্ষণ পর ওর টনক নড়ল । কি ব্যাপার !! গাড়ী এত আস্তে আস্তে চলছে কেন ? সামনে ঝুকে জাহিদ ঐ লোককে ডেকে বলতে চাইল "ভাই গাড়ি এত আ-

মেরুদন্ড দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতল স্রোত তার কথা মাঝপথেই থামিয়ে দিল । চালকের আসনে কেউ বসে নেই । সবার আগে যে সম্ভাবনাটা মাথায় এল তা আর ভাবতে চাইল না জাহিদ। গাড়ি থেকে নেমে যেতে চাইল ও । কিন্তু আতংকে ও নড়তে পারছিল না । সামনে রেল ক্রসিং । গাড়িটা খুব আস্তে আস্তে ঐ রেললাইনের উপর গিয়ে দাড়াল । হঠাৎ ট্রেনের হুইসেলের শব্দে জাহিদের মাথা পরিষ্কার হয়ে গেল । তাহলে ভুতটার তাহলে এই মতলব ! এখন ট্রেন এলে জাহিদ একদম চ্যাপ্টা হয়ে যাবে । তাড়াতাড়ি ও দরজার হাতল ধরে টান দিল । আবারো ভয়ে ও পাগল হয়ে গেল । বারবার হাতল ধরে টান দিলেও ওটা খুলছিল না । গাড়িটা আবারো নড়তে শুরু করছিল । ওদিকে ট্রেন কাছে চলে আসছিল । ভয়ে আর পরিশ্রমে হাঁপাতে হাঁপাতে যখন ও জীবনের আশা প্রায় ছেড়ে দিচ্ছিল তখনই ও খেয়াল করল দরজাটা তো লক করাও থাকতে পারে । তাড়াতাড়ি লকে হাত দিয়ে লকটা খুলে ও বাইরে ঝাঁপিয়ে পড়ল । মাটিতে গড়িয়ে ও কিছুটা দুরে সরে এলো । তখনই আবারো গাড়িটা চলতে শুরু করল । গাড়িটা রেললাইন পার হয়ে গেলেই ট্রেন চলে গেল । জাহিদ মাটিতে শুয়ে চোখে আতংক নিয়ে গাড়িটার দিকে তাকিয়ে ছিল । গাড়িটা আবারো ওর সামনে এসে দাঁড়াল ।

গাড়ির পেছন থেকে হঠাৎ এক যুবক বের হয়ে গাড়ির গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছিল । তার সারা গায়ে এই শীতের রাতেও ঘাম । জাহিদের একটু খটকা লাগল । ভুতেরাও ঘামে ?!! যুবক জাহিদকে দেখতে পেয়ে কাছে এসে বলল ''কী ব্যাপার, মাটিতে শুয়ে আছেন কেন ? আমার গাড়িটা যে রেললাইনের উপর হ্যাং হয়ে ছিল দেখেন নি ? ''

জাহিদ কোনরকমে ঘাড় নাড়ল ।

''আচ্ছা মানুষতো আপনি ! আরেকটু হলেই মারা যাচ্ছিলাম আর আপনি হেল্প করতে আসলেন না ? পাক্কা দুই কিলোমিটার ধরে গাড়িটাকে ঠেলছি !! আসুন আসুন , আমার সাথে ঠেলুন।

জাহিদ বিনা বাক্য ব্যয়ে উঠে যুবকের সাথে গাড়ি ঠেলতে শুরু করল।

Read More

উত্তর পাওয়া যায়নি আজও

2 Comments

যে ঘটনা আজকে আমি শেয়ার করতে যাচ্ছি তা নিঃসন্দেহে একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আমি ছিলাম সেই অভিজ্ঞতা বর্ননার একজন প্রত্যক্ষ
শ্রোতা।

ঘটনাটি নিম্নরূপঃ

তালুকদার বাবু ময়মনসিংহ শহরের একটি নামী কলেজের গনিতের শিক্ষক। এখন
অবসরপ্রাপ্ত। নিঃসন্দেহে বাস্তববাদী, যুক্তিবাদী এবং কুসংস্কার মুক্ত।
কিন্তু তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ব্যাখ্যা তিনি আজও খুঁজে বেড়ান।
কোনো প্রকার যুক্তি দিয়ে তিনি এর সংজ্ঞা দিতে পারেন না। তাই হয়তো পাড়া-পড়শি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবার সাথে
ঘটনাটা শেয়ার করেন। ঘটনাটা স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে-আগে। তালুকদার বাবুর ছোটো বোনের বিয়ে হয়েছে ময়মনসিংহ জেলা অন্তর্ভূক্ত এক গ্রামে। বোনের জামাই মাছের ব্যবসায়ী। নাম ছিল অরুন। বিশেষত, সাপ্তাহিক মঙ্গল বার রাতে ময়মনসিংহ শহরে যে হাট বসত তাতেই তিনি গ্রাম থেকে মাছ নিয়ে আসতেন আর সেইদিনই তার সর্বাধিক বিক্রি হত। আর তালুকদার বাবু ছিলেন তার সাপ্তাহিক বাঁধা
খরিদ্দার।ঘনিষ্ট ছিলেন, টাকা পয়সা ঠিকমত দিতেন কি না তা আমি বলতে পারব না। তা যাই হোক-
এমনই এক মঙ্গলবার তালুকদার বাবু গেলেন সেই হাঁটে। রাত্রি বেলা, সবাই ছোটো
ছোটো কুপি জালিয়ে নিজ-নিজ পন্যের পসরা নিয়ে বসে গেছে। তালুকদার বাবু
হাঁটে গেলে সবার আগে স্বভাবতই বোন
জামাইয়ের কাছেই যেতেন। কিন্তু, এবার
হাঁটে গিয়ে হন্যি হয়েও বোন জামাই কে খুঁজে পেলেন না।
-“ব্যাপার কি? অরুন তো কোনো সমস্যায় না পড়লে হাঁট বাঁধা দেয় না! কোনো
সমস্যা হয়েছে বোধহয়” চিন্তিত হয়ে গেলেন
তালুকদার বাবু।
চিন্তা করতে করতে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা
হলেন। আরো ভাবতে লাগলেন, -” একবার
ওদের বাসায় যাওয়া দরকার। কিন্তু, এই রাতে কিভাবে যাই, ঠিক আছে, কাল
ভোরে না হয় রওনা হয়ে যাবো”
হঠাৎ তালুকদার বাবু রাস্তার পাড় থেকে একটা ডাক শুনতে পেলেন।
-ও দাদাবাবু!
তখন তালুকদার বাবু হাঁট থেকে বেশ খানিকটা দূরে। হতচকিত হয়ে তিনি তাকিয়ে দেখেন অরুন বাবু সম্পূর্ন একা, রাস্তার একপাড়ে একটা মাত্র রুই মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য বসে আছেন। বোনের জামাইকে দেখে আস্বস্ত হলেন তিনি। আবার কৌতুহল বসত জিজ্ঞেস করলেন হাঁটে না গিয়ে এইখানে বিচ্ছিন্ন ভাবে বসে আছেন কেন। উত্তরে তিনি বললেন যে তিনি মাত্র তিনখান মাছই এনেছিলেন, তাই আর হাঁটের ভেতরে না গিয়ে এখানেই বিক্রি করে চলে যাবেন। তার মধ্যে আবার দুইটা মাছ বিক্রিও করে ফেলেছেন। তালকদার বাবু বললেন
-তাহলে আমার ভাগ্যটা ভাল
কথপোকথন শেষ করে একমাত্র অবশিষ্ট মাছটা নিয়ে স্বানন্দে বাড়ি চলে এলেন
তালুকদার বাবু। গিন্নিকে বললেন দারুন করে মাছ ভাজা করতে। গিন্নিও তার
পতিদেবের কথা অক্ষরে অক্ষরে রাখলেন।
দারুন তৃপ্তি করে সে রাত্রে মাছ খাওয়া হল। ভালো খাওয়ার পর ভালো একটা ঘুমও হল। কিন্তু ভোরে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। ঘুমের ঘোর
নিয়ে দরজা খুলেই দেখলেন ছোটো বোনের দেবর দাঁড়িয়ে আছে।
-কি ব্যাপার রতন- এত সকালে ! কোনো খবর আছে নাকি?
জিজ্ঞাস করলেন তালুকদার বাবু।
ও পার থেকে উত্তর এলো
-গত কাল সন্ধ্যায় দাদা মারা গেছে, দুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল।
তালুকদার বাবু তৎক্ষনাৎ জ্ঞান হারালেন। নিঃসন্দেহে নিজ বোনের বিধবা চেহারাটা তার কাছে তখন যতটা না ভয়ংকর মনে হচ্ছিল, তার চেয়ে তিনি এই ভেবে বেশি ভয় পেয়েছিলেন যে, যেই ব্যাক্তি সন্ধ্যায় মারা গেছেন তার হাতের মাছ তিনি রাত্তিরে কিভাবে কিনে আনলেন আবার তৃপ্তি করেও খেলেন। আজও এর উত্তর তালুকদার বাবু খুঁজে বেড়ান।

Read More